মুক্তগদ্য সাহিত্য

এ কেমন দিন! চশমাহীন! – প্রাণকৃষ্ণ ঘোষ

সিরিজঃ চশমা
সম্পাদনাঃ শোভন সেনগুপ্ত

“চশমাটা খসে গেলে মুশকিলে পড়ি” – হ্যাঁ দাদা অনেকদিন আগেই ইস্কুল ছাড়লেও চশমাটা না থাকলে জাস্ট দু’পা ও চলতে পারি না। এখনও। বিশ্বাস করুন চশমাহীন বেঁচে থাকা কার্যত অসম্ভব। এইতো সেদিনের কথা, হাই – প্রোফাইল কবিতা উৎসবে ডাক পায়নি বলে এক কবিবন্ধুকে দেখলাম চশমাটাকে একটু নাকের ডগায় ঝুলিয়ে দিয়ে কে ডাক পেয়েছে আর কোন সূত্রে ডাক পেয়েছে তার বিশ্লেষণে ভীষণ রকম ব্যস্ত। গম্ভীর মাস্টারমশাই থেকে বং আঁতেল, উদীয়মান শিল্পী থেকে প্রমিসিং কবি, কর্পোরেট ইঞ্জিনিয়ার থেকে সরকারি আধিকারিক, নব্য ইউটিউবার থেকে হবু গোয়েন্দা – সবার কাছে চশমাটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। সব কিছু ছেড়ে দিয়ে দিন কাটিয়ে দেবেন ঠিক। কিন্তু চশমা ছাড়া? -নৈব নৈব চ। চশমাটা আসলে কাজের জিনিস হওয়ার পাশাপাশি স্টাইল স্টেটমেন্টও বটে। ওয়ার্ক প্লেসে একদিন চশমাটা ক্যারি করতে ভুলে গেলেই বোঝা যায় চশমার ভূমিকা। গুরুত্বপূর্ণ নোটশিটে সাইন করতে হবে বা ব্যাঙ্কে গিয়ে সাইন করে অফিসের চেক সাবমিট করতে হবে – অগত্যা সহকর্মীদের চশমা হাতড়ে বৈতরণী পার করার চেষ্টা করতেই হবে। অফিসের কাজে বাইরে বেরোনো হোক বা ব্যক্তিগত সফরে – সানগ্লাস কিন্তু মাস্ট। আধুনিক বিশ্বে সানগ্লাসটাও অন্যতম স্টাইল স্টেটমেন্ট। চশমাটা হাতের নাগালের বাইরে চলে গেলেই বিপত্তি। বেডসাইড টেবিল হোক বা বিছানার ধার, টয়লেটের মিরর বক্স হোক বা ড্রয়িংরুমের জানালার স্ল্যাব – দিনের মাথায় বেশ কয়েকবার চশমাটা খুঁজে বের করতেই হয়। না করে উপায়ই বা কী? চশমাটা তো আসলে আড়চোখে সবাইকে মেপে নেওয়ার একটি মান্য পদ্ধতি। চশমাটা তো আসলে অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরানোর অঙ্গীকার।

আরও পড়ুন >> চশমা কেন এল?

Facebook Comments

Diganto Patrika

ISSN 2454–5686,
A Creative Magazine published from Purbasha, Barrackpore, Kolkata - 700122

You may also like...

1 Comment

  1. […] এ কেমন দিন! চশমাহীন! – প্রাণকৃষ্ণ ঘোষ […]

Comments are closed.