মুক্তগদ্য সাহিত্য

সাইকেলের সুদিন – মিনতি গোস্বামী

সিরিজঃ সাইকেল
সম্পাদনাঃ শোভন সেনগুপ্ত

সাইকেল এই দ্বিচক্র যানটির সঙ্গে ছোট থেকেই পরিচিতি ঘটেছে। আমাদের সমযকালে বাস ট্রেনের অত চল ছিলনা। মানুষ পায়ে হেঁটে এগ্ৰাম,সে গ্ৰাম যেত। সাইকেল যানটি তখনকার দিনের গ্ৰামাঞ্চলের মধ‍্যবিত্ত বাড়ির স্ট্যাটাস ছিল। বাবু গোছের লোকেরা  সাইকেল নিয়ে দূর দূরান্তে যেত। বছর পঞ্চাশ আগে গ্ৰামাঞ্চলে ও মফস্বলেও   ঘড়ি আংটির সঙ্গে সাইকেল ও বিয়ের যৌতুকের জায়গা দখল করে নিয়েছিল। ‘র‍্যালের’  সাইকেল ই দাবী করতো পাত্রপক্ষ। তখন এই  যানটিতে পুরুষের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল।
সাতের দশকে দেখি মফস্বল শহরে উচ্চবিত্ত বাড়ির মেয়েরা সাইকেল চালাতো। দূর থেকে দেখতাম।
তখন লেডিস সাইকেল শহরে চলে এসেছে। আর উত্তম-সুচিত্রার “এই পথ যদি না শেষ হয়”  দেখার পর তো  প্রেমিক-প্রেমিকার প্রথম হাতিয়ার হয়
সাইকেল। প্রেমিকাকে  সাইকেলে বসিয়ে চোখের নিমেষেই আড়াল হ ওয়া যায়।

আটের দশকের পর থেকে গ্ৰামাঞ্চলের মানুষের হাতে পয়সা আসায় সাইকেলের জায়গা দখল করে নেয় বাইক। গ্ৰাম , শহর ছয়লাপ হয় বাইকে।
কিন্তু  সাইকেলে করে চূড়ি, ঘুগনি, পুঁতির মালা,
পাঁউরুটি, বিস্কুটের হাঁক এখনো নষ্টালজিক করে দেয়।
মধ‍্যবিত্ত মেয়েরাও এরপর সাইকেল ছেড়ে স্কুটি ধরলো। সাইকেল হয়ে গেল গরীব মানুষের বাহন।

বছর কুড়ি আগেও মায়েরা বলতো সাইকেল চালালে  লম্বা হয়, স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
এখন অবশ্য স্কুলে নবম শ্রেণী থেকে সাইকেল দেওয়ায়  ছাত্র-ছাত্রীদের  মধ্যে সাইকেলের চল হয়েছে।

লকডাউনে দেখলাম, হাজার হাজার শ্রমিক. নতুন সাইকেল কিনে পাড়ি দিচ্ছে শত শত মাইল।
বাসের ভাড়া বৃদ্ধি হ ওয়ায় ,আর করোনা থেকে বাঁচতে সাইকেলের বিক্রি দুশো গুণ বেড়ে গেছে।
হবে নাই বা কেন! সাইকেল কেনো, হাওয়া দাও আর নিজের মত ছোটো। তেলের খরচ তো নেই।
পেশীতে জোর থাকলে সাইকেল নিয়ে সারা দেশ ভ্রমণ করতে ও বাধা নেই।
পরিবেশ বান্ধব সাইকেল, আবার তোমার সুদিন ফিরছে। স্পর্শ আর অর্থ বাঁচাতে আবার তোমাকে
সবাই আলিঙ্গন করবে, তোমার ওষ্ঠে চুমু দিয়ে ছুটবে  গন্তব্যে ।

আরও পড়ুন >> হিরো >>

Facebook Comments

You Might Also Like