নিবন্ধ সাহিত্য

স্বামী বিবেকানন্দের সাংবাদিকতা-চর্চা (পর্ব ৩/৬)- পৃথ্বী সেনগুপ্ত

উদ্বোধন: ১৮৯৪-র ২৫শে সেপ্টেম্বর বরাহনগর মঠের গুরুভাইদের উদ্দেশ্য স্বামীজী লিখলেন, “একটা খবরের কাগজ তোমাদের edit (সম্পাদন) করতে হবে, আদ্দেক বাঙলা, আদ্দেক হিন্দি-পারো তো আর একটা ইংরাজীতে৷ পৃথিবী ঘুরে বেড়াচ্ছ-খবরের কাগজের subscriber (গ্রাহক) সংগ্রহ করতে ক-দিন লাগে? যারা বাহিরে আছে, subscriber যোগাড় করুক৷” এই সময়ে মাদ্রাজ থেকে ‘ব্রহ্মবাদিন’ প্রকাশিত হলেও তা বাংলাভাষায় নয় এবং সঙ্ঘের পত্রিকাও ঠিক তা না৷ আবার স্বামীজীর উৎসাহ মতো সেই সময় আরেকটি পত্রিকা প্রকাশের জন্য সময়মত টাকাও জুটছিল না৷ মাদ্রাজে ইংরেজি পত্রিকা সম্পাদনাতেই (১৮৯৬) অনেক টাকা স্বামীজীর চলে যাচ্ছিল৷ তবে টানাপোড়েনে হাল ছেড়ে দিতে রাজি ছিলেন না তিনিও৷ কারণ তখন তার বেদান্ত ধর্ম-সম্পর্কিত ব্যাখাকে রক্ষণশীলরা প্রচণ্ডভাবেই আক্রমণ করছিল৷ তাই বাংলাভাষায় বাঙালীর সামনে নিজের অবস্থানকে তুলে ধরার দরকার ছিল ভীষণভাবেই৷ স্বামীজী ভারতে ফেরার পর ১৮৯৭ সালে শুদ্ধানন্দকে বলছেন, “ব্রহ্মানন্দকে বলবে, সে যেন অভেদানন্দকে ও সারদানন্দকে লেখে- যে বাঙলা কাগজটা বার করবার কথা হচ্ছে, তার জন্য যেন তারা প্রবন্ধ ও প্রয়োজনীয় উপাদান মঠে পাঠায়৷ গিরিশবাবু কি কাগজটার জন্য যোগাড়যন্ত্র করছেন?” এরপর কেটে গেল আরেকটি বছর, ১৮৯৮ সালে মিস ম্যাকলাউডকে সাহায্য করতে অনুরোধ জানিয়ে বিবেকানন্দ লিখলেন, “আমি কলকাতায় একখানা কাগজ চালাব৷ তুমি যদি ঐ কাগজ চালু করতে আমাকে সাহায্য করো, তবে খুবই কৃতজ্ঞ হবো৷” সব ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে অবশেষে ১৮৯৯সালের ১৪ই জানুয়ারী প্রকাশিত হল ‘উদ্বোধন’ পত্রিকা৷

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে স্বামীজী লিখিত উদ্বোধন পত্রিকার প্রথম সংখ্যার ‘প্রস্তাবনা’র (মাঘ, ১৩০৫) বক্তব্য কি ছিল প্রাথমিকভাবে তা জানা দরকার, তাতে তার পত্রিকা প্রকাশের উদ্দেশ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গী সম্বন্ধে আমরা একটা ধারণা লাভ করতে পারব৷

‘ব্রহ্মবাদিন’র সম্পাদকীয় নীতির সুর যা ছিল স্বামীজীর বিশ্ব জয় করার প্রথম সোপান, ‘উদ্বোধন’ পত্রিকায় এসে তা ভারতকে শৃঙ্খলমুক্তির স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিল৷ পত্রিকার ‘প্রস্তাবনা’য় স্বামীজী ইউরোপ আর ভারতের সভ্যতার তুলনামূলক আলোচনায় বলছেন “…আধুনিক সময়ে পুর্নবার ঐ দুই মহাশক্তির সম্মিলনকাল উপস্থিত৷ এবার কেন্দ্র ভারতবর্ষ… এই দুই শক্তির সম্মিলনের ও মিশ্রণের যথাসাধ্য সহায়তা করা ‘উদ্বোধনে’র জীবনোদ্দেশ্য”৷ আরও বলছেন, ‘“রজোগুণের মধ্য দিয়া না যাইলে কি সত্ত্বে উপনীত হওয়া যায়? ভোগ শেষ না হইলে যোগ কি করিবে? বিরাগ না হইলে ত্যাগ কোথা হইতে আসিবে?… ভারতে রজোগুণের প্রায় একান্ত অভাব; পাশ্চাত্যে সেইপ্রকার সত্ত্বগুণের৷ ভারত হইতে সমানীত সত্ত্বধারার উপর পাশ্চাত্য জগতের জীবন নির্ভর করিতেছে নিশ্চিত, এবং নিম্নস্তরে তমোগুণকে পরাহত করিয়া রজোগুণ প্রবাহ প্রতিবাহিত না করিলে আমাদের ঐহিক কল্যাণ যে সমুৎপাদিত হইবে না ও বহুধা পারলৌকিক কল্যাণের বিঘ্ন উপস্থিত হইবে, ইহাও নিশ্চিত৷ এই দুই শক্তির সম্মিলনের ও মিশ্রণের যথাসাধ্য সহায়তা করা “উদ্বোধনের” জীবনোদ্দেশ্য৷” আবার তিনি বলেছেন, “…আইনের প্রবল প্রভাবে, ধীরে ধীরে, অতি যত্নে রক্ষিত রীতিগুলিরও অনেকগুলি ক্রমে ক্রমে খসিয়া পড়িতেছে-রাখিবার শক্তি নাই৷ নাই বা কেন? সত্য কি বাস্তবিক শক্তিহীন? “সত্যমেব জয়ততে নানৃতঃ”-এই বেদবাণী কি মিথ্যা? অথচ যেগুলি পাশ্চাত্য রাজশক্তি বা শিক্ষাশক্তির উপপ্লাবনে ভাসিয়া যাইতেছে-সেই আচারগুলি কি অনাচার ছিল? ইহাও বিশেষ বিচারের বিষয়৷” প্রস্তাবনার বিভিন্ন জায়গায়তেই, স্বামীজী সমাজ-সংস্কারের প্রশ্নে ভারতের অবস্থা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন৷ কিন্তু তিনি আশাবাদীও ছিলেন, এই অবস্থার পরিবর্তন হবে, পরিবর্তন করতে হবে আমাদেরকেই৷ তিনি তাই প্রস্তাবনার নানা ছত্রে নিজেকে প্রশ্ন করার মধ্য দিয়ে পাঠককেও প্রশ্ন করেছেন- “জাতিভেদ বিদ্যমান থাকিবে?-গুণগত হইবে বা চিরকালের জন্মগত থাকিবে? জাতিভেদে ভক্ষ্যসম্বন্ধে স্পৃষ্টাস্পৃষ্টবিচার বঙ্গদেশের ন্যায় থাকিবে বা মান্দ্রাজাদির ন্যায় কঠোরতর রুপ ধারণ করিবে? অথবা পঞ্জাবাদি প্রদেশের ন্যায় একেবারে তিরোহিত হইয়া যাইবে? এ সকল প্রশ্নের সিদ্বান্ত করা অতীব দুরহ৷” একইরকমভাবে প্রশ্ন করেছিলেন, “ত্যাগের অপেক্ষা শান্তিদাতা কে? অনন্ত কল্যাণের তুলনায় ক্ষণিক ঐহিক কল্যাণ নিশ্চিত অতি তুচ্ছ৷ সত্ত্বগুণাপেক্ষা মহাশক্তিরসঞ্চার আর কিসে হয়? অধ্যাত্ম বিদ্যার তুলনায় আর সব ‘অবিদ্যা’ সত্য বটে, কিন্তু কয়জন এ জগতে সত্ত্বগুণ লাভ করে-এ ভারতে কয়জন? সে মহাবীরত্ব কয়জনের আছে যে, নির্ম্মম হইয়া সর্ব্বত্যাগী হন? সে দূরদৃষ্টি কয়জনের ভাগ্যে ঘটে, যাহাতে পার্থিব সুখ তুচ্ছ বোধ হয়?”…এরকম আরো অনেক কিছুই৷ প্রসঙ্গত বলা উচিত, উনবিংশ শতকের এই শেষের সময়ে, বাংলা তথা ভারতের সমাজ-শিক্ষা-অর্থনীতি-ধর্ম, অর্থাৎ একটি সমাজের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণকারী বিষয়গুলি অনেক ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছিল৷ ‘উদ্বোধন’-এ স্বামীজীর এই বক্তব্যগুলি সেই সমসাময়িক অবস্থারই প্রতিফলন মাত্র৷ সমাজের সবার মধ্যেই দৃড় বিশ্বাস জাগিয়ে তোলার জন্য ‘উদ্বোধন’র ভূমিকা ছিল অনুঘটকের মতই৷ তাই তিনি উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘“নিঃস্বার্থভাবে ভক্তিপূর্ণহ্দয়ে এই সকল প্রশ্নের মীমাংসার জন্য “উদ্বোধন”, সহ্রদয় প্রেমিক বুধমণ্ডলীকে আহ্বান করিতেছে এবং দ্বেষবুদ্ধিবিরতি ও ব্যক্তিগত বা সমাজগত বা সম্প্রদায়গত কুবাক্য প্রয়োগে বিমুখ হইয়া সকল সম্প্রদায়ের সেবার জন্যই আপনার শরীর অর্পণ করিতেছে৷”’ উল্লেখ্য, পরে ‘ভাববার কথা’ নামে প্রবন্ধসংগ্রহ প্রকাশের সময় এই ‘প্রস্তাবনা’র নাম দেওয়া হয়েছিল ‘বর্তমান সমস্যা’৷

প্রথম সংখ্যা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সেইসময়ে ‘উদ্বোধন’র বার্ষিক দাম ছিল ২টাকা৷ আর প্রতি সংখ্যার নগদ মূল্য দুই আনা৷ মূল পৃষ্ঠায় লেখা থাকত, বাঙ্গালা-পাক্ষিক-পত্র, ধর্মনীতি, সমাজনীতি, দর্শন, বিজ্ঞান, কৃষি, শিল্প, সাহিত্য, ইতিহাস, ভ্রমণ প্রভৃতি নানাবিধ বিষয়ক৷ নীচে লেখা থাকত, কলিকাতা, শ্যামবাজার স্ট্রীট, কম্বুলেটোলা, ১৪নং রামচন্দ্র মৈত্রের লেনস্হ উদ্বোধন-প্রেস হইতে সম্পাদক কর্ত্তৃক মুদ্রিত ও প্রকাশিত৷ প্রথম বর্ষে এই পাক্ষিক পত্রিকার ১২মাসে ২৪টি সংখ্যাই প্রকাশিত হয় (সাধারণতঃ প্রতি জৈষ্ঠ্যের গ্রীষ্মের ছুটিতে বা অন্য কোনো সময় এক মাস পত্রিকা প্রকাশ বন্ধ থাকত)৷ উদ্বোধন প্রকাশের সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে, পত্রিকার সুবর্ণজয়ন্তী সংখ্যায় (প্রথমে স্বামী সুন্দরানন্দজী সম্পাদিত) ‘উদ্বোধনের জয়যাত্রা’ প্রবন্ধে শ্রী কুমুদ্বন্ধু সেন লিখছেন, “‘উদ্বোধন’ প্রকাশের দিন এখনও স্মৃতিপটে উজ্জ্বল হইয়া রহিয়াছে৷ কি অদম্য উৎসাহ, কি মহোচ্চ আদর্শ, কি বৈদ্যুতিক প্রেরণা এবং কি অনাবিল আনন্দ কতিপয় শিক্ষিত বাঙ্গালী যুবকের হ্রদয়ে সঞ্চারিত হইয়াছিল৷ স্বামীজীর লিখিত প্রস্তাবনা পাঠ করিয়া তাঁহাদের নয়ন-সম্মুখে বাংলা তথা ভারতের এক ভাবী সমুজ্জল ছবি উদিত হইয়াছিল ! ক্ষুদ্র পাক্ষিক পত্রিকা-সামান্য পুঁজি, পরগৃহে অফিস ও ছোট ছাপাখানা, তবুও তাহার উজ্জল ভবিষ্যৎ কল্পনায় প্রস্ফুটিত হইতে লাগিল৷ কারণ ইহার পশ্চাতে রহিয়াছে শ্রীরামকৃষ্ণের প্রবল আধ্যাত্মিক মহাশক্তি, স্বামী বিবেকানন্দের অপূর্ব প্রেরণা ও প্রদীপ্ত উৎসাহব্যঞ্জক বাণী এবং সর্বত্যাগী পরহিতব্রতী রামকৃষ্ণ সন্ন্যাসিসঙ্ঘের সুদৃড় সংকল্প, নিস্কাম কর্ম-প্রেরণা এবং অসাধারণ অধ্যবসায়৷ আজ মনে পড়ে ‘উদ্বোধনে’র সর্বপ্রথম সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা পুজ্যপাদ স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দের কথা৷ তাঁহাকে প্রতিষ্ঠাতা বলিলাম, কারণ স্বামী বিবেকানন্দের আদেশে, উপদেশে এবং সহায়তায় তিনি কঠোর পরিশ্রম সহকারে ‘উদ্বোধন প্রেস’ এবং ‘উদ্বোধন পত্রিকা’র সম্পাদনার গুরুদায়িত্বভার একাকী বহন করিয়াছিলেন৷ কঠোর তপস্যাপুত জীবনে অক্লান্ত পরিশ্রমে স্বামীজীর পত্রিকাপ্রকাশের ইচ্ছাকে তিনি কার্যক্ষেত্র আকাল দিয়া প্রাণপ্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন৷” ১৮৯৬ সালে স্বামী ত্রিগুণাতীতকে স্বামীজীর লেখা এক পত্র থেকে জানা যায়, “…তোর কাগজের idea (সঙ্কল্প) অতি উত্তম বটে এবং উঠে পড়ে লেগে যা, পরোয়া নেই৷ ৫০০টাকা পত্রপাঠ পাঠিয়ে দেবো….৷ খ্রীষ্টিয়ান, মুসলমান ধর্ম প্রচারের ঢের লোক আছে, তুই আপনার দেশীধর্ম প্রচার এখন করে ওঠ দিকি৷ তবে কোনও আরবীজানা মুসলমান ভায়া ধরে যদি পুরানো আরবী গ্রন্থের তর্জমা করতে পারো, ভাল হয়৷ ফার্সী ভাষায় অনেক Indian History (ভারতীয় ইতিহাস) আছে৷ যদি সেগুলি ক্রমে তর্জমা করতে পারো, একটা বেশ regular item (নিয়মিত বিষয়) হবে৷ লেখক অনেক চাই৷ তারপর গ্রাহক যোগাড়ই মুশকিল৷ উপায়-তোরা দেশে দেশে ঘুরে বেড়াস, বাঙলাভাষা যেখানে যেখানে আছে, লোক ধ’রে কাগজ গতিয়ে দিবি..চালাও কাগজ, কুছ্ পরোয়া নাই৷ শশী, শরৎ, কালী প্রভৃতি সকলে পড়ে লিখতে আরম্ভ কর৷ ঘরে বসে ভাত খেলে কি হয়? তুই খুব বাহাদুরি করেছিস৷ বাহবা সাবাস! গুঁজেগুঁজেগুলো পেছু পড়ে থাকবে হাঁ করে, আর তুই লম্ফ দিয়ে সকলের মাথায় উঠে যাবি৷ ওরা নিজেদের উদ্ধর করছে,-না হবে ওদের উদ্ধার, না আর কারুর৷” (বাণী ও রচনা, ৭ম খণ্ড, পৃঃ ২১০) জাহাজে ভ্রমণকালীনও স্বামীজী এই পত্রিকার জন্য লিখতেন এবং সেখানে অন্যান্যদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন৷ ভগিনী নিবেদিতা বলেছিলেন (“The master as I saw him”), স্বামীজী মনুষ্যত্বের উদ্বোধনকে সবচেয়ে বড় সাধনা বলে মনে করতেন৷

THE JOURNAL OF THE MAHA-BODHI SOCIETY ১৮৯৯ সালে, ‘উদ্বোধন’ সম্পর্কে একটি মূল্যায়ণ ছেপেছিল-“The articles are well written and show thorough grasp of the subject. The style is chaste, elegant and clear. We wish our new contemporary a useful career.The opening article and some other subsequent articles are written by Swami Vivekananda.”

‘ব্রহ্মবাদিন’ প্রকাশের ক্ষেত্রে যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন আলাসিঙ্গা পেরুমল, স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দের উৎসাহে ঠিক তেমনিই প্রকাশিত হয়েছিল ‘উদ্বোধন’ পত্রিকা৷ তবে পত্রিকায় কোনোরকম ভুল ত্রুটি দেখলে স্বামীজী প্রয়োজনে ত্রিগুণাতীতানন্দকে তিরস্কারও করতেন৷ এক্ষেত্রে কোনো অজুহাতই শুনতে চাইতেন না-“ওসব কথা রেখে দে-তোরা যখন কাজ হাতে নিয়েছিস তখন তাতে গলদ থাকবে কেন?…ওদেশে কম্পোজিটররাও বিদ্বান নয়-যারা কাজের ভার গ্রহণ করে, তারা কাজটি নিঁখুত করবার চেষ্টা করে৷ যতক্ষণ নির্ভুল না হয় ততক্ষণ তারা নাছোড়বান্দা৷ এদেশে দেখি ছাপা হলেই হল-তাতে ভুল-ত্রুটি থাকে থাকুক৷ একটি শব্দের এদিক ওদিক হলে লেখার ভাব বা অর্থ একেবারে উল্টে যায়৷ কত সাবধানে প্রুফ দেখতে হয়৷ তোরা কাগজে যদি ভুল ভ্রান্তি ছাপবি-তবে উন্নতিটা কি হল বল”? (উদ্বোধন, সুবর্ণজয়ন্তী সংখ্যা, পৃঃ২১৬-২১৭)৷ শুরুর প্রাথমিক পর্বে অবশ্য স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ, কাজে লোকসান এবং নানা অভিযোগ নিয়ে স্বামীজীর কাছে প্রেস বিক্রি করার কথা বলতেন৷ কিন্তু স্বামীজী তাকে অভিমানের সাথেই ভালোবাসা মিশিয়ে এমন তিরস্কার করতেন, যে তা ত্রিগুণাতীতানন্দের কাছে আশীর্বাদ স্বরুপই মনে হত৷ এই ইতিবাচক অনুঘটকের কাজের দরুণই তার এক বিশাল কর্ম প্রচেষ্টা শতবর্ষ পেরিয়ে আজও সার্থকভাবে বয়ে চলেছে৷ কারণ প্রয়োজনে তিনি সবাইকেই একইভাবে সমালোচনার সারিতে আনতেন৷

পড়ুন>> স্বামী বিবেকানন্দের সাংবাদিকতা-চর্চা (পর্ব ১/৬) >>
স্বামী বিবেকানন্দের সাংবাদিকতা-চর্চা (পর্ব ২/৬) >>

আরও পড়ুন >> স্বামী বিবেকানন্দের সাংবাদিকতা-চর্চা (পর্ব ৪/৬) >> Coming Soon ১৯ জুন, ২০২০

Facebook Comments

You Might Also Like