রম্যরচনা সাহিত্য

তিনি বাংলা সাহিত্যের এই বিজ্ঞাপণমুখর অন্তঃসারশূন্য যুগে সত্যিকার কবি

প্রত্নজীব : ভবিষ্যতের ভ্রূণ 

জয় গোস্বামী এ যুগের অন্যতম জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী কবি । নানা সময়ে, নানা বিষয়ে তাঁর প্রতিবাদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রকাশ করেছেন তিনি এবং সেই প্রতিবাদও বড়োই মধুর —

“…বাড়ি ফিরছি খেতে বসছি আরও একটি নরহত্যা করে/ না করে উপায় নেই, আমি মারি তাই সে খাওয়ায়/ পথে পথে বালবাচ্চা বড় করছে এই খাদ্যগুণ/ সে-ও নিজে খাদ্য পায় আমাকে আদেশ দিচ্ছে বলে/ যে তাকে আদেশ দেয়, তার হাত শক্ত করুন ।” (‘ভূতুমভগবান’)

  তিনি মূলত লিট্‌ল ম্যাগাজিন থেকে উঠে এসেছেন… তাই বোধহয় “আজকাল কি ভাল লিট্‌ল ম্যাগাজিন হচ্ছে না, আর সেখান থেকে কি নতুন কেউ উঠেও আসছেন না?” — এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, — “আমার ছোটবেলাতেও এই কথাটা শুনেছি । চিরকালই এই কথাটা বলা হয়। অথচ শুধু লিট্‌ল ম্যাগে লিখেই নিজের কবিত্ব কায়েম করেছেন, এমন কবি আমার আগেও ছিলেন, পরেও আছেন ।” (বাংলাদেশে বই উৎসবে কবির সাক্ষাৎকার থেকে, ১ নভেম্বর, ২০১৮)

তিনি বাধ্যতামূলক ‘হ্যাঁ’ বলার ক্ষোভ থেকে লিখেছিলেন, –

“এ গণতান্ত্রিক দেশে আজ / আমাদের সমস্ত কথায় / হ্যাঁ বলাই আপনাদের একমাত্র কাজ !” (‘আমাদের সমস্ত কথায়’)

তিনি, বাংলা সাহিত্যের এই বিজ্ঞাপণমুখর অন্তঃসারশূন্য যুগে কতিপয় সত্যিকার কবিদের মধ্যে অন্যতম । পাঠকের মন তিনি সেই কবেই জয় করে নিয়েছেন । কিন্তু সিংহাসন তাঁর চাই না, মন নিরাসক্ত । তাই তিনি সে অর্থে ‘খবরে থাকেন না’ । দেখুন কীভাবে খ্যাতির মোহ-কে এই নির্জনবাসী কবি বিদ্রুপ করে লিখেছিলেন, — 

“এখন ম্যাজিকই ধ্যান, জ্ঞান, বুদ্ধি, বাঁচামরা পেশা

ভোর থেকে হাতসাফাই, নিজের জিভ কেটে জোড়া দেওয়া

সন্ধ্যায় হাজির হওয়া মঞ্চে মঞ্চে ভরাভর্তি শো-এ

রাত্রিবেলা বাড়ি আসা ধুঁকে ধুঁকে করতালি সয়ে

ভোর থেকে প্র্যাকটিস শুরু, প্রত্যহ দাঁত দিয়ে ওই

কামড়ানো বুলেটে ধরা প্রাণ

একবার ফসকালে শেষ, মনে রেখো, ও ম্যাজিশিয়ান !” (‘কীভাবে এলাম এই শহরে’)

জয় গোস্বামীর কবিতার নানা দিকে নিয়ে ভিন্নধর্মী আলোচনা হতে পারে — কিন্তু এখানে আমরা তাঁর ‘প্রত্নজীব’ (১৯৭৮) গ্রন্থটিকে আলোচনার জন্য নির্বাচন করেছি, যেটি তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ । তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ —

ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ (১৯৭৬)

আলেয়া হ্রদ (১৯৮১)

উন্মাদের পাঠক্রম (১৯৮৬)

ভূতুমভগবান (১৯৮৮)

ঘুমিয়েছো, ঝাউপাতা? (১৯৮৯)

আজ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করো

বজ্র বিদ্যুং ভর্তি খাতা (১৯৯৫)

পাগলী, তোমার সঙ্গে (১৯৯৪)

পাতার পোষাক (১৯৯৭)

যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল (১৯৯৮)

মা নিষাদ (১৯৯৯)

সূর্য পোড়া ছাই (১৯৯৯) ইত্যাদি ।

‘প্রত্নজীব’ গ্রন্থটিতে যেন একটা পরিকল্পনা আছে। আছে একটা নির্দিষ্ট ভাবনা — যদিও কবিতাগুলি যেন অনেকখানি খামখেয়ালি। তারা কিছুটা অবাধ্যও, কবির নিয়ন্ত্রণ মানতে চায় না সবসময়। বইটির কবিতাগুলি যেন একই মলাটে তিনটি খন্ডে বিভক্ত — 

১/ হাসি, হাসিগুলি, হাসিদের (এর মধ্যে আছে তিন-টি কবিতা —  ‘হাসি, হাসিগুলি, হাসিদের’, ‘বকুলবাগান’, ‘সাদা বিষ কালো বিষ’),

২/ উদ্ভিদ (এর অন্তর্গত — ‘জিভ’, ‘কালো ত্রিভুজের আস্তরণ’, ‘উদ্ভিদ’ — শীর্ষক দীর্ঘ কবিতাগুলি ),

৩/ ভ্রূণ (এই পর্বেও তিনটি কবিতা — ‘মোমবাতি’, ‘শুভ’ আগুন শুভ ছাই, ‘ভ্রূণ’)। প্রসঙ্গত, আমরা ক্রমানুসারে আলোচনা করবো কবিতাগুলি নিয়ে এবং সেই আলোচনা অনেকটাই পাঠপ্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতেই লিখিত হবে । 

প্রথম দুটি কবিতাকে কাব্যগ্রন্থের বাকি অংশটুকুর সাথে মেলাতে কিছু অসুবিধা হয় । প্রথমটি রোমান্টিক হয়েও কোথাও যেন অশুভ ইঙ্গিতবাহী — “কুয়াশারা, এসে দাঁড়ালো / তোমার জানলার সামনে, তারপর একসময় হাত বাড়িয়ে টেনে আনলো / তোমার মুখের কুচি কুচি তুষার…” (‘হাসি, হাসিগুলি, হাসিদের’) । “…আসলে, তোমাকে আমি মনে মনে মোমবাতি বলে ডাকতুম” — পরে একটি কবিতার নামও ‘মোমবাতি’, তখন অবশ্য শরীর শিখার মতো জ্বলতে শুরু করবে, দেখা দেবে ‘চাবুকের সরু মোটা লম্বা কিছু দাগ’ । এরপর ‘বকুল বাগান’ — যেসব ফুলের গন্ধ সাপ আসে, কবিতাটা যেন তেমনি একটি ফুল, কিন্তু তৃতীয় কবিতার সাথে তার বিস্তর ব্যবধান । ‘সাদা বিষ কালো বিষ’ কবিতাটি যেন একটি প্রক্রিয়া — যেন নিজেরই স্মৃতি ও সত্তার চারিদিকে আবর্তন । অনেকটা গ্লানিমাখা ঘুমঘোর, যেসব রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়, হাই উঠতে থাকে আর কেবলি ছেঁড়া ছেঁড়া ঘুমে ছটফট করি, অথচ উঠে যেতে পারি না — কবিতাটিও তেমন । কিছুতেই যেন শেষ করা যাচ্ছিল না ! ভারত-বাংলাদেশ বই উৎসব উপলক্ষে ১ নভেম্বর, ২০১৮ বাংলাদেশে বসে কবি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, “…কে কী ভাবে লিখবে, তা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। কেউ কাউকে বলে দিতে পারে না, কবিতা কেমন হবে। তেমনি কবিতা ছন্দে লেখা উচিত কী অনুচিত, আমি তা বলার কেউ নই। আমি যখন লিখি তখন আমি জানি না, প্রথম লাইনের পর দ্বিতীয় লাইন কেমন হবে। ৫৫ লাইন লেখার পরও জানি না, কবিতাটা হয়তো ২০০ লাইনের দীর্ঘ কবিতায় শেষ হবে। লাইন গুলো আসতে থাকে। আমি যখন লিখি তখন লেখা ছন্দ-বদ্ধ ভাবে আসে। লিখে ফেলি। কীভাবে লিখি তা আমার জানা নেই ।” আরো বলেছেন, “আমি জানি না আমি কী লিখবো। আমি পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া লিখতে থাকি। বাসে বসে আছি, কেউ কথা বলছে, শব্দ হচ্ছে, টিকিট চেকার টিকিট চাইছে এরই মাঝে হয়তো চার লাইন কবিতা এসে গেলো। বাস থেকে নামলাম, কবিতাটা হারিয়ে গেলো ।”

 “এখন ভেলার নিচে উলটে

যে পড়েছে তার দেহ তুলতে

সারাদিন কেটে যায় নাবিকের !” — কবি নিশ্চই এই ‘নাবিক’, অথচ তাঁর গ্লানিটুকু যেন ভেলার নিচে যে উলটে পড়েছে, তার দেহের মতো। দেখুন পরের পংক্তিগুলিতে কবি লিখছেন, “দুজন নাবিক তারা পুরোনো” — নাবিকের এই সঙ্গীটি কে ? হঠাৎ কোথা থেকে এলো ? নাকি এও ঘুমঘোরে হঠাৎ যেমন চরিত্রেরা আসে, তাদের ছুঁয়ে দিতে গেলেই উধাত্ত হয়, এও তেমনি ! 

“মনে করো কতদিন সন্ধ্যের

মুখে তুমি বন্ধুর বোনদের

মরে যেতে দেখেছো বিষণ্ণ ।” — এই যে গ্লানি, সঙ্গে মমত্ব, স্ত্রী লিঙ্গের প্রতি নয়, মানুষের প্রতি । 

‘জিভ’ কবিতায় (মধুসূদনের ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ চকিতে উঁকি দিয়ে যায় একস্থানে) কবি শ্রমিকের নিয়তি সম্পর্কে বলছেন, “আসলে ঠাট্টা সবটাই” । পরবর্তী সময়ে ‘শাসকের প্রতি’ কবিতায় এই উচ্চারণ আরো স্পষ্ট মনে হবে, —

“আপনি যা বলবেন

আমি ঠিক তাই করবো

তাই খাবো

তাই পরবো

তাই গায়ে মেখে বেড়াতে যাবো

কথাটি না বলে

বললে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে থাকবো সারা রাত

তাই থাকবো

পরদিন যখন বলবেন

এবার নেমে এসো

তখন কিন্তু লোক লাগবে আমাকে নামাতে

একা একা নামতে পারবো না

ওটুকু পারি নি বলে

অপরাধ নেবেন না যেন ।” (‘শাসকের প্রতি’)।

যদিও কবি এখানেই স্পষ্ট অনুভব করেছেন, “…ঝড় / আসছে ঐ শান্ত গ্রাম পেরিয়ে” । উচ্চারণ বৃহত্তর হয়ে ওঠে আচমকাই — “সব দেশ মুছে গেছে ভারত কি গ্রীনল্যাণ্ড…” — মনে হয় সত্যিই তো, কবিতায় এভাবেই হয়তো বিশ্বায়ন ডুব সাঁতার দিতে দিতে সহসা ভেসে ওঠে। দুনিয়া আচ্ছন্ন হয়েছে ‘কালো গ্যাস আর ধোঁয়াশা’য় । এখন যেকোনো আশা-ই দুরাশা । উচ্চারণ ক্রমেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে ওঠে, কারণ কবি ‘কালো ত্রিভুজের আস্তরণ’ কবিতায় ব্রহ্মাণ্ডে পৌঁছে গিয়েছেন, — “খুব শীতে পিঠ দিয়ে শুধু গ্রহগুলি পড়ে আছে । তবে কি প্রত্নেই মিশে গেছে ওরা দিনে দিনে ?” কবির প্রশ্ন । কাব্যগ্রন্থের নাম যে ‘প্রত্নজীব’, স্মরণ রাখা দরকার । তাহলে কিছুই কি নেই বেঁচে ? না, তা নয় । তবু স্বপ্ন বেঁচে থাকে, অথবা একটু সবুজ, প্রাণ — জীবনের প্রতি ওইটুকু হতমান কবির আহ্বান — “বেঁচে আছে কিছু সাদা ঘাস । বাকি সব হিমে, কঠিনে ঢেকে গেছে…” । কবি যেন মধ্যযুগীয় ভারতের স্বর্ণময় সমৃদ্ধ সময়ের স্বপ্নে বুঁদ হয়েই ‘কালো ত্রিভুজের আস্তরণ’-কবিতায় ষষ্ঠ খন্ডে বলছেন, — “এসো বাণিজ্যে মন দাও” । এমনকি ‘মহাভারত’-এর সঞ্জয়ের কাছেও কবির প্রশ্ন থেকে যায়, উত্তরের প্রত্যাশায় । “আরো বর্ষার কবরী ঐ খুলে গেলো, বিদ্যুৎ, ঐ যে বর্শা” —এইখানে যমক ও বানানভেদের বুদ্ধিদীপ্ত প্রয়োগ ভারি চমৎকার । কবি-র চাহিদা বিশেষ কিছুই নয় অথচ, সারল্যে বলেন, — “…আজকে যা পেয়েছি তাই ঢের ।”

পাথরের গর্ভগৃহ, দীর্ঘ ঊর্ণজাল এসব প্রহসন ভেদ করে কবিতায় এসে পড়ে ‘একাত্তর’ —

“ছেলেটির ডানবুকে সজোরে

পা চালালো অফিসার: ‘ষোল বছরের

যত আছে থেঁৎলে দাও বুট দিয়ে, প্রতি

ঘর থেকে টেনে আনো, তারপর মরে

গেলে বনে ফেলে দিও’…সমস্ত নির্বোধই

জানে এটা ভয়ঙ্কর একাত্তর সাল ।” 

মানুষের নির্মমতায় কবি লজ্জিত, — “আমার মিনতি / শোনো, তুমি এই ছবি দেখিও না ।”

১৯৭৮ সালে প্রকাশিত ‘প্রত্নজীব’ এভাবেই সময়ের ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও মানবিকতার খড়-কুটো আঁকড়ে বেঁচে থাকার বিশ্বাসটিকে চিত্রিত করে তোলে । ‘অশুভ দিনের সংকেত দুয়ারে এসে’ দাঁড়ালে কবি সত্যিই অসহায় বোধ করেন — অনেক পরে তিনিই গান (সঙ্গীত) -কে অস্ত্র বানাবেন ‘অস্ত্রের বিরূদ্ধে গান’ কবিতায় ।

কবি-রা কত না আঘাত লুকিয়ে রাখেন ! কিন্তু অভিমান জমে । জয় গোস্বামী-কেও কখনো কখনো বড্ড অভিমানী মনে হয় । সত্যি, সইতে সইতে মানুষ যেন কখন ‘মানুষের টুকরো’-তে পরিণত হয়, ‘উদ্ভিদ’ কবিতা যেন তারই এপিটাফ্ । কিন্তু এখানেই যে শেষ নয় । এই কাব্যগ্রন্থে কবি যেন একটা অ্যাপোক্যালিপ্স-কে প্রত্যক্ষ করছেন, মহাবিশ্ব থেকে । তাই সব শেষ হয়ে গেলেও, কিছু অনুধাবন বাকি থেকে যায়, — “আজ আমাদের চামড়ার উপর হাঁ করে তাকিয়ে রয়েছে / প্রকান্ড সব ক্ষত মুখ –” (‘উদ্ভিদ’) । জাগতিক নিয়মেই ধ্বংসের পরেও সূচনা হয় — জীবন সুন্দর, মৃত্যু আছে বলেই । তাই এর পরবর্তী খন্ডের নাম — ‘ভ্রুণ’ !

কখনো কখনো হয়তো দ্বন্দ্ব জাগে মনে — কাব্যগ্রন্থ কোন সময়টা ধরছে ? আমাদের অতীত না, ভবিষ্যৎ ! আমার তো মনে হয় বর্তমান ! নইলে কবি ‘শুভ আগুন শুভ ছাই’ কবিতায় কি করে বলেন, — “ছাদের এক চিলতে ফাঁক দিয়ে / শরীরে এসে লাগবে রোদ, আলট্রাভায়োলেটও ।” যদিও কিছুটা অতিশয়োক্তি মনে হয় ঐ শেষে বাড়তি ‘ও’-টির জন্য, তবু অনুষঙ্গটা প্রয়োজনীয় বলেই মনে হয় । এদিকে ‘ভ্রূণ’ কবিতায় ফের সেই প্রাগৈতিহাসিক সময় — মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায় সরীসৃপ, বিভীষিকাময়, বোমারু বিমান নয় তো ! পংক্তি-ভেদে কবিতায় বন্য ও ব্যারাকপুরের সহাবস্থান আশ্চর্য করে । তবে “…অর্চনার ধ্বনি নেই কোনো” এমন উচ্চারণের পর “অর্চনা, মেয়েটি হলে আছে” — এ বড়ো খেলো মনে হয় । 

কাব্যগ্রন্থ শেষ হয় তেমনি ভাবে, যেভাবে বাইবেলে নোয়ার গল্প শেষ হয়েছিল — সম্ভাবনায় — “আরকের মধ্যে রয়ে গেছে ডুবে যাওয়া ফুল, ফুলে শরীর গুটিয়ে নিয়ে শুয়ে আছে পতঙ্গ, মানুষ, পাখি আর উদ্ভিদের মিশ্রিত শিশুটি। তিন লক্ষ বছর পর তার বেরিয়ে আসবার কথা……” (‘ভ্রূণ’) । সেই যে জীবনানন্দ দাশ তাঁর ‘সুচেতনা’ কবিতায় বলে গিয়েছিলেন, ওর চেয়ে অমোঘ আর কিছু নেই —

“মাটি-পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি,

না এলেই ভালো হ’তো অনুভব ক’রে;

এসে যে গভীরতর লাভ হ’লো সে-সব বুঝেছি

শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে;

দেখেছি যা হ’লো হবে মানুষের যা হবার নয়—

শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয় ।”

Facebook Comments

You Might Also Like