ছোটগল্প সাহিত্য

যে কথা হয়নি বলা – জিয়াউর সেখ

সিরিজঃ চশমা
সম্পাদনাঃ শোভন সেনগুপ্ত

এখন স্কুলে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছে বিভা। একটা হাইস্কুলে পড়ায় সে । সকাল থেকে তার মা বারবার বলছে ‘আজ আর স্কুলে যাসনে না মা।পাত্রপক্ষ দেখতে আসবেন বলেছেন ।তাদের পছন্দ হয়ে গেলে তোদের চার হাত এক করে দেব খুব তাড়াতাড়ি , তাই ভাবছি।’ কিন্তু বিভা মুখ ভার করে জবাব দিল ‘স্কুলে আমাকে যেতেই হবে মা । আর এই সাত তাড়াতাড়ি বিয়ে! নেভার ।’ 

‘আর কতদিন বলতো?’ মায়ের এই জিজ্ঞাসাকে পাত্তা না দিয়ে বিভা বলল ‘ আর কিছুদিন যাক তারপর । সবে তো চাকরি পেলাম । আগে নিজেকে গুছিয়ে তো  নিই । তারপর না হয় ভাববো ।’ মায়ের আপত্তিকে পাত্তা না দিয়ে একটু ভালো রকম সাজ নিয়ে স্কুলে বেরিয়ে গেল । স্কুলে এসেও ক্লাসে তার মন নেই বিভার। ছাত্রীদের কাজ দিয়ে সমস্ত ক্লাস সে চুপটি করে বসে রইলো। তারপর খানিকটা বিরক্ত হয়ে টিফিনে ছুটি নিয়ে বেরিয়ে এল স্কুল থেকে। এখন মার্চের প্রথম সপ্তাহ ।ঠান্ডা ততটা না থাকলেও শীতল বাতাস মনটাকে ছুঁইয়ে দিচ্ছিল তার । বিভা হাঁটছিল স্কুলের পাশের বইয়ের দোকানগুলোর পাশ দিয়ে, আনমনেই ।খেয়ালই করেনি বছর পঁচিশের এক যুবকের সাথে ধাক্কা খাবে সে । কিন্তু ধাক্কা খাওয়ার পর খেয়াল হল । ততক্ষণে যুবকটি তার শান্তিনিকেতনী ব্যাগ, কিছু বই নিচু হয়ে মাটি থেকে তুলছে । কিন্তু মুখ তোলার পর দুজনেই অবাক । ‘আরে রাকিব না !’ বিভা বলেই ফেললো ।রাকিব তার এক সময়ের প্রাণের বন্ধু ছিল।কলেজ জীবনের বন্ধু ।চাকরি বাকরি করে না ।লেখালেখি করে । বেশ নামও করেছে কবি হিসাবে । রাকিবের ঘোর কেটে যেতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লো’বিভা তুই! অনেকদিন দেখা নাই বল্ । কোথায় ছিলি এদ্দিন ! শুনেছিলাম চাকরি করছিস !’ একসঙ্গে এতগুলো প্রশ্নে বিভা থমকে গেছে । রাকিব উত্তরের অপেক্ষা না করেই কাঁধের ব্যাগ থেকে একটা বই বের করে বিভার হাতে দিল ।বলল ‘আজই প্রকাশ পেল পাবলিশার্সের দপ্তর থেকে । তোর জন্য এক কপি গিফ্ট।’বিভা বইয়ের পাতা উলটে দেখলো বইটার নাম ‘যে কথা হয়নি বলা’ ।আর সবচেয়ে চমকিত হল দেখে যে বইটা উৎসর্গ করা হয়েছে বিভাকেই । রাকিবের চেয়ে থাকার ঝলকে রেঙে গেল বিভার মন।আলতো ভাবে রাকিবের চশমাটা ঠিক করে দিতে দিতে আর সাত-পাঁচনা ভেবে বিভা সোজাসুজি রাকিবকে বলেই বসলো’আমাকে বিয়ে করবি ! আজই!!’

আরও পড়ুন >> চশমা কেন এল?

Facebook Comments

You Might Also Like