নিবন্ধ সাহিত্য

ধর্ম নয়, ভাষাই জাতি পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি (প্রথম পর্ব) – নূপুর সাহা

dhormo bhasha jati nupur saha

ধর্ম নয়, ভাষাই জাতি পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি 

(১)

ঠেকায় পড়ে বাঙালি… এপার বাংলায় ঠেকায় না পড়লে, কেউ বাঙালি হন না৷ সংকটে না পড়লে বাংলার কথা ভাববার অবকাশ পান না৷ এমনকী যে আধিপত্যবাদী শক্তি (আমার করের টাকায় বলীয়ান হয়ে) আমার মুখের ভাষা কেড়ে নিয়ে, রবীন্দ্র-নজরুল এর জন্মভূমি পশ্চিমবাংলার বুক থেকে বাঙালির মাতৃভাষা মুছে দিয়ে হিন্দীর দাসত্ব এবং আধিপত্য চাপিয়ে দিচ্ছে, সেই শক্তির কাছে তারাই বরেণ্য বাঙালি হিসেবে গণ্যমান্য৷ অন্যদিকে, ‘মাতৃভাষার অপমান দূর হউক’, বা ‘মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা’, অথবা ‘আমার সোনার বাংলা’…. ইত্যাদি ‘জাতীয় সংহতি-বিরোধী’ ক্ষতিকারক উচ্চারণ মাত্র৷ আজ রবীন্দ্র-নজরুলের জন্মভূমিকে, বাংলার সংস্কৃতিকে রক্ষা করা আগ্রাসী ষড়যন্ত্রের হাত থেকে তার দায়িত্ব জনগন অস্বীকার করতে পারে না৷ প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক মৃণাল সেন-এর প্রথম হিন্দী ছবি বনফুল-এর কাহিনীতে ‘ভুবন সোম’ (১৯৬৯) প্রযোজক না পেয়ে ছবিটি বাংলার পরিবর্তে হিন্দীতে করেন৷ ‘ভুবন সোম’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেলের এক উচ্চপদে আসীন বাঙালি আমলা, ছবির শুরুতেই পর্দায় তুলে ধরেন ‘সোনার বাঙাল, মহান বাঙাল’-এর প্রতিনিধিদের৷ সাহিত্যে: রবীন্দ্রনাথ, চলচ্চিত্রে: সত্যজিৎ রায়, সংগীতে: রবিশংকর, ধর্মে(?) বিবেকানন্দ৷ একজন ‘বামপন্থী’ চিত্র পরিচালক ধর্মে : বিবেকানন্দকে দেখিয়ে বাঙালি বলতে কাদের বোঝাতে চেয়েছেন ? তিনি কি বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা’র দলে ? 

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, প্রয়াত চিন্তাবিদ শিবনারায়ণ রায় ২০০৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘বাংলার রেনেসাঁস প্রথমে বাংলা গদ্য সাহিত্যকে বিকশিত করলে ও পরবর্তী সময়ে তা নাটকে, চলচ্চিত্রে, সংগীতে ছড়িয়েছে৷ সত্যজিৎ রায়, রবিশংকর, আলি আকবর এঁরা কি সাধারণ বাঙালি ? ১৯৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনও ছিলেন ‘বাঙালি’৷ কিন্তু ওই ‘বাঙালি’ মুখ্যমন্ত্রীই বাংলা ভাষার স্বাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত বাঙালি ছাত্রদের উপর গুলি চালাবার নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ বর্ণপ্রথা (জাত-পাত) এবং ধর্মের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক বিভাজনে বিভক্ত বাঙালি জাতি৷ বাঙালি জাতির জাতীয় অস্তিত্ব দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছে গভীর খাদের প্রান্তসীমায়৷

চলবে……

তথ্যসূত্র ঃ ‘স্বাধীন বাংলা’


“চালু ইংরেজ চলে যাবার সময় মিচকে হেসে চোখ মেরে গিয়েছিল ভারতমাতার দিকে।
চল্লিশ বছর পর ডিম ফুটে বেরুচ্ছে আমাদের অন্ধ সাহেব প্রীতি…”
পড়ুন
আ-মরি বাংলা ভাষা !’>>

 

 “আমরা এখন একটা নতুন যুগে এসে দাঁড়িয়েছি,
ভাষার বিবর্তনের যুগ, ভাষার উন্নতির যুগ!”
পড়ুন ‘বাংলা ভাষা ……কাল ও আজ………..’ >>

dhormo bhasha jati nupur saha
Facebook Comments

You Might Also Like