চলচ্চিত্র বিনোদন

মনের বয়স কত? কিভাবে মাপবেন? “জাগ্গা জাসুস” দেখে আসুন – সোমা দে

বলছি, বয়স কত? হাড়ের নয়। মনের? কিভাবে মাপবেন? 
“জাগ্গা জাসুস” দেখে আসুন।
*****

প্রথমেই বিধিমূলক সতর্কীকরণ, এ লেখা মুভি রিভিউ-টিভিউ নয়। একে বলা যায় “ধিতাং” লেখা।
“এহেড অফ টাইম” “নট ইভেন ইন্টেলেকচুয়াল” “বোগাস” “বিলো অ্যাভারেজ” ইত্যাদি শুনেই বা পড়েই গিয়েছিলাম “জাগ্গা জাসুস” দেখতে। 
ফোর্থ ডে, লাস্ট শো। 

ছবির শুরুতেই একটি বাচ্চার গলা, গানের মাধ্যমে জানাচ্ছে ডু’স এন্ড ডোন্ট’স। ওই মোবাইল-ফেসবুক ইত্যাদি বন্ধ রাখা, নাহলে ফিল্মে যা খিচুড়ি হয়েছে, সেটা গুলিয়ে যেতে পারে ইত্যাদি। শুনে মুচকি হাসি এসেই গেলো অজান্তে। আরে সিরিয়াসলি। অনুরাগ বাসু আমার খুড়তুতো কাকুর জ্যাঠতুতো জ্যেঠুর মামাতো মামা বলেই কি বলছি নাকি? সিরিয়াসলি এলো। চুপচাপ ইন্টারনেট অফ করলাম। মোবাইল সাইলেন্ট করলাম। 

ক্যাটরিনা গল্পকার, বাচ্চাদের কমিক বই থেকে গল্প শোনাচ্ছেন। কখনো কথা কখনো গান। গল্প নিয়ে যাচ্ছে এক সেট থেকে অন্য সেটে। সেখানেও গান-নাচ। বুনিয়াদে আসলে রহস্য উদ্ঘাটন। নামেই সেটা স্পষ্ট। “জাসুসি” তো থাকছেই। মোট তিনটে অনুসন্ধানী বা গোয়েন্দা গল্প, পাশাপাশি জাগ্গা-গোয়েন্দার নিজস্ব জীবন কাহিনী নিয়েই এই মুভি। মোটামুটি সবাই এটিকে “মিউজিক্যাল ফিল্ম”ই বলছেন। কারণ সংলাপ-এর বেশিরভাগই গানে গানে। তিন ঘন্টার সিনেমাতে তাহলে কত গান হতে পারে, কল্পনা করুন। অদ্ভুতভাবে অসংখ্য সে গানের সবকটাই আমার কাছে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অদ্ভুত নয়? কন্সিস্টেন্সি রাখতে পারাটা কি চাট্টিখানি কথা? 

তা হঠাৎ খামোকা সব গানে-ভুবন-ভরিয়ে-দেব কেন? লজিক হ্যায়। “জাগ্গা জাসুস” তোতলা, মানে একটু নয়, বেশ ভালো রকম। গানে গানে কথা বললে ব্যাপারটা নাকি স্মুথ হয়ে যায়। ওই মিউজিক ডিরেক্টর প্রীতমের নিজস্ব এক্সপেরিন্সও তাই। ওর ইন্টারভিউতে এ কথা বহুবার শুনেছি। 

যদিও খুব কম জায়গায়, তথাপি, “গলতি সে মিস্টেক” হয়েছে। “জাগ্গা জাসুস” ভুলে গেছে সে তোতলা আর ফ্লুয়েন্টলি কথা বলে ফেলেছে। আমি ব্যাপারগুলো ইগনোর করেছি। এ ঘটনা এক্সসাইটমেন্টে হতে পারে বলে ধরেছি। হয় জগ্গার এক্সসাইটমেন্ট বা হয়তো অনুরাগ বাসুর।


হাতি-জিরাফ-বাঘ-গুহা – হিরোর চুলের স্টাইল সবই এলো পর্দায়। তাতে একটু বেশ টিনটিন এ ফিরে যাওয়া হলো। পুরুলিয়া, আসাম হয়ে, মরক্কো পৌঁছলো। আসামের বিহু হলো। “নাইফ থ্রো” হলো। “গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা” হলো। “শুন্ডি” হলো। কলকাতার “ইয়েলো ট্যাক্সি” হলো। “শাশ্বত-রজতাভ” হলো। মানে বাঙালিদের জন্য এক্সট্রা মাখো-মাখো, যেটা অনুরাগ বাসুর মুভিতে না পেলেই বরং মন খারাপ, সে সব একদম জোরকদমে ছিল। আর সেই একই কারণে অবাঙালিরা বেশিরভাগই গালি দিয়েছেন। গানে গানে গল্প বলে অনেকেই হাই তুলেছেন। হাতির মাথার ওপর চেপে বিয়াল্লিশ তলা থেকে ঝাঁপ মেরে আবার লাফ দিয়ে গার্লফ্রেন্ডকে কাঁধে করে সোজা বিয়ের মণ্ডপে পৌঁছে যাওয়া টাইপ “সিম্পল” সিনেমাটিক কিছু নেই বলেছেন। তার ওপর আবার বাঙালিদের নিয়ে বাড়াবাড়িটা, “আগুনে ড্রপিং ফ্রেশ ঘি”। আমার কথা হচ্ছে, আইডিয়াটা এদেশে নতুন। সেইটা মানতে হবে ভায়া। শুধু একটাই ইয়ে ইয়ে ব্যাপার। বেশ কয়েকবছর আগে একটি হলিউড মিউজিক্যাল ফিল্ম “দি সাউন্ড অফ মিউজিক” দেখেছিলাম। সেটি সাধারণ একটি গল্পকে অসাধারণ করে তুলেছিল শুধুমাত্র মিউজিক ছিল বলে। মিউজিকের সব লিরিক্সের মানে বোঝা না গেলেও গল্পটা সিম্পল বলে কোনো ঠোক্কর খেতে হয়নি। এবার “জাগ্গা জাসুস” যেহেতু ডিটেক্টিভ তাই প্রতিটি শব্দ-বাক্য পরিষ্কার শোনা বা বোঝার প্রবল চেষ্টা ছিল, তা যাচ্ছিলোনা মিউজিকের জন্য বা ছন্দের জন্য বা স্পীডের জন্য বা আমার ব্রেনের সিগন্যালের জন্য। ঐটাই যা…. কিন্তু তা রসে ব্যাঘাত ঘটায় নি। বরং দুটো গান বেশ মনে ধরেছে। সোশ্যাল মেসেজ দেওয়া, “কিষাণ সুইসাইড কর রাহা হ্যায় তো হামারা কিয়া, হাম তো নিম্বু মির্চি লাগাকে সেফ হ্যায়।” অন্যটি, “জিনা তো উনহিকা জিনা কাহালায়া, জোভি বিনা চু চা কারকে, খাকে-পিকে চলে গায়ে।”

না না এতো কিছুর পরেও এটা মুভি রিভিউ-টিভিউ নয়। আসলে লোকজন বলছে প্রচুর জায়গা থেকে নাকি কপি-টপি হয়েছে। আমার কাছে যুক্তিগুলো একেবারেই ধোপে টেকার মতো না। বাঙালির ইমোশনগুলোকে ইঙ্গিতে রেখেছেন সারা সিনেমা জুড়ে, হ্যাঁ তা বলতে পারেন। তাতে তো বাঙালিদের খুশিই হওয়া উচিত। বাঙালি মুভির যা হাল ৮০-এর পর থেকে, এই অনুরাগ, প্রীতম এরাই তো আবার একটু হাল ধরছেন। বাঙালিদের তাতেও প্রব্লেম। রাবণের চেয়ে বিভীষণ মার্কেটে বেশি। যাই হোক রিস্ক নিয়ে এতো সুন্দর একটা প্রজেক্ট করার জন্য পুরো টিমকে হৃদয়মার্কা ইমোজি। 
আর ইয়ে সৌরভ শুক্লা ভদ্রলোককে আবারো প্রণাম।


jagga jasoos review soma de
Facebook Comments

You Might Also Like