বিনোদন সাক্ষাৎকার

ক্লাইম্যাক্স নিয়ে সাক্ষাৎকারে ফিল্মমেকার রাজা চ্যাটার্জী দিলেন এই বড় বয়ান

গুণে গুণে ছয়টি প্রশ্ন। একান্ত সাক্ষাৎকারে সেই ‘ষড়’যন্ত্রকেই সুইচ হিট মারলেন চিত্র পরিচালক সাহিত্যিক রাজা চ্যাটার্জী। কি বললেন তার প্রথম প্রকাশিতব্য রহস্য গ্রন্থ ‘ক্লাইম্যাক্স’ সম্বন্ধে…  

১. ‘ক্লাইম্যাক্স’-এর জন্য রহস্য তৈরী করলেন, তার সমাধানও করলেন! ‘মানিক কাকুর ক্যামেরা’ মুভির শুটিং-এ নিঃশ্বাস ফেলার সময় পাচ্ছেন তাহলে?

– প্রথমেই বলি, সিনেমার প্রথম দর্শক হল সেই ছবির পরিচালক। পরিচালক কল্পনায় যেভাবে সিনেমাটি দেখতে পান বা দেখতে চান, সেভাবে তিনি দর্শকদের দেখান। ‘মানিক কাকুর ক্যামেরা’র চিত্রনাট্যের লিখেছিলাম গতবছর গোড়ার দিকে। এর সাথেই প্রতিটি দৃশ্যের খুঁটিনাটি ডিটেল লেখা শুরু করি। তারপর ছোট ছোট ছবি এঁকে স্টোরিবোর্ড করি। এটাই আমার ছবি করার পদ্ধতি। ফলে স্টোরিবোর্ড করার পর আমার কাছে ছবিটা জলের মত পরিষ্কার হয়ে যায়। এখন ছবির শুটিং শেষ পর্যায়ে। আর শুটিং-এর ফাঁকে ফাঁকে আমার ‘অকাজের খাতা’য় লেখা লেখি তো চলতেই থাকে।

২. শুধু তো গল্প নয়, নিজের গল্পের জন্য ইলাস্ট্রেশনও না কি আপনিই করেছেন?

– বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমার গপ্পের ইলাস্ট্রেশন আমি নিজেই করি। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না।

৩. এত ব্যস্ততা। প্রথম বই। কলকাতা বইমেলা। প্রকাশক জোর করেছেন নিশ্চয়ই?

– ব্যাপারটা অনেকটা সেইরকম। হঠাৎ প্রকাশক শোভন সেনগুপ্ত ফোন করে আমার কয়েকটি গল্প নিয়ে একটি সংকলন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন; যা বইমেলায় দিগন্ত পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হবে। এর আগেও কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব এসেছিল। আমি সবিনয়ে এড়িয়ে গিয়েছিলাম। দিগন্তের প্রকাশিত বইগুলোর মান আমাকে মুগ্ধ করে। তাছাড়া অনেক পাঠকই চাইছিলেন এমন কোন সংকলনের। শেষটায় তাই রাজি হয়ে যাই।

৪. শুরুতেই ক্লাইম্যাক্স ! না কি ‘ক্লাইম্যাক্স’ দিয়ে শুরু ?

– আমার গপ্পে একটা শুরু, বিস্তার ও শেষ থাকে। তবে তা ক্রম অনুযায়ী থাকেনা, সেটা আমার পাঠকেরা জানেন। অর্থাৎ অনেক সময় শেষ থেকেও শুরু হয়। (হাসি)

৫. ক্যালিগ্রাফি, শর্ট, ফিচার, গল্প – রাজা চ্যাটার্জীর আর কোন অ্যাঙ্গেল আছে যা এখনও অনাবিষ্কৃত?

– হ্যাঁ তাতো আছেই। অনুবাদ করা, কমিক স্ট্রিপ আঁকা, ফটোগ্রাফি, পেইন্টিং। আসলে একটি আইডিয়াকে বিভিন্ন ফর্মে প্রকাশ করার মধ্যে বেশ একটা চ্যালেঞ্জ আছে। এতে বুদ্ধির গোড়ায় বেশ শান্‌ দেওয়া যায়।

৬. ফ্যান, ফলোয়ার, বন্ধুমহল নিশ্চয়ই বই হাতে পেতে উদগ্রীব ! সবাই কি জানে বইটির ভূমিকা লিখছেন ‘সোয়েটার’ বাংলা মুভির কাহিনীকার জয়িতা সেনগুপ্ত ?

– বইটির ভূমিকা যে উনি লিখছেন তা আমি আপনার কাছেই প্রথম জেনেছি। অত্যন্ত খুশির সংবাদ। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায়, বইটি কিভাবে পাওয়া যাবে – তা জানতে চাইছেন অনেকে। জয়িতা-কে আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাবেন। নমস্কার। (আবার নতুন ছবির স্ক্রিপ্ট নিয়ে বসে পড়লেন)

Facebook Comments

You Might Also Like