বই রিভিউ বাংলা পত্রিকা দপ্তর

এবার বসন্তে রবির ভোরের আলো

“শুনলাম তোর বিয়ে
কয়েকটা মাস পর
অনেক কাজ হয়ে গেছে,
যেমন ধর, বিয়ের চিঠি পাঠানো,
বন্ধুদের বলা – এই সব কিছু।
কই, আমাকে তো বলিস নি!
আসলে, ভালোবাসা শব্দটা
খুবই জটিল, গল্প – কবিতায়
পড়তে ভালো লাগে।” – (ভুলে যাওয়া, ‘ভোরের আলো’, ডঃ রবি শিশির)

এমনই ভুলে যাওয়া বসন্তে আবার নতুন করে বেঁচে ওঠার আলোর দিশা নিয়ে এবারের ৪৪তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হল কবি ডঃ রবি শিশিরের দেড়শ টিরও বেশি কবিতা নিয়ে কবির তৃতীয় কাব্য সংকলন ‘ ভোরের আলো’।

“প্রশ্ন করেছিলাম… তুমি কার?
উত্তর এসেছিল… হৃদয়ের দাবি যার
আমি শুধু তার।” – (আজ ভালোবাসার দিন)

বসন্তের শেষ লগ্নে থেকেও মনের বসন্তকে জাগিয়ে রাখার রসদ দিয়েছেন চিরযৌবনের কবি ডঃ রবি শিশির তাঁর ‘ভোরের আলো’ কাব্যগ্রন্থে। কবিতায় ছন্দরূপ ধরা পড়েছে অত্যন্ত সাবলীল গদ্য ভঙ্গিমায়। ফলত প্রতিটি কবিতাই হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত, অন্তঃমনের ভাব প্রাসঙ্গিক।

কবি শুধু প্রেমের অনাবিল জোয়ারে মন ভাসাতে নারাজ। কাজের মধ্যেও যে প্রেম খুঁজে পাওয়া যায়, সন্ধান পাওয়া যায় বসন্তের নবীন পলাশের, তা কবি জানিয়েছেন তাঁর ‘মহান মে দিবস’ কবিতায় –

“মুক্ত আমি, শান্ত আমি
করিনা ভয় কম্পিত জটা জালে।
ওগো প্রিয় রাজা,
পুরাতনকে বিদায় দিয়ে আসীন করো
এমন ধারা, যাতে সুরে সুরে বীণা বাজে
নানা কাজের মাঝে।”

কর্মজীবনে নিজেকে নিয়োজিত করার পাশাপাশি মনকে তিনি উন্মুক্ত করে রেখেছেন আগন্তুক নিখাদ প্রেমের প্রতীক্ষায় –

“আজ থেকে দরজাটা খোলাই
রইল শুধু তোমার প্রতীক্ষায়।” (তোমার তুমি)

এক অনাবিল আনন্দে পাঠক মনকে আন্দোলিত করে তোলে ডঃ রবি শিশিরের কবিতাগুলি। নানা পরশে কেঁপে ওঠে অজানা কিছু অলীক পরাজয়। অবচেতনেই এড়িয়ে যেতে ইচ্ছে করে ছোটখাটো কিছু বানান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা বা সোনাঝুরির পথে পথে নৈসর্গিক প্রেমের কবিতার মাঝে কবির হঠাৎ করে চলে আসা মাতৃভাষার প্রেমে বলিদানের বিমূর্ত কবিতা, যা কখনই অপাংক্তেয় নয়।

বই টার্মিনাস থেকে প্রকাশিত ১৯২ পৃষ্ঠার বইটি জয় ব্যানার্জীর প্রচ্ছদে ঋদ্ধ হয়ে উঠেছে।

Facebook Comments

You Might Also Like