বই রিভিউ বাংলা পত্রিকা দপ্তর

অরিন্দম চক্রবর্তী’র কবিতা গুলি পড়তে পড়তে – ডঃ সুস্মিতা সাহা

কবির কাছে কি প্রত্যাশা থাকে সময়ের? কয়েকটি ছোট ছোট টুকরো টুকরো মুহূর্ত জড়ো করে সে কি বাতাসে রেখে যাবে জলছাপ! নাকি থেকে যাবে চিরায়ত নান্দনিকতায়! পাঠকের মনের মধ্যে?

অরিন্দমের কবিতা গুলি পড়তে পড়তে মেঘ জমতে থাকে আকাশে কখনো বা ঝিলিক দিয়ে যায় মেঘভাঙ্গা রোদ্দুর। তাই বলে কি শুধুই নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত তার কবিতা? শুধু প্রকৃতির মেদুর পটভূমি? কবিতা তো তেমনটা দাবি করে না, কবিতা উঠে আসে সময় ও সমাজের রূঢ় বাস্তবতার ভিতর থেকে, অরিন্দমের কবিতা ঠিক তাই করেছে। কবি পাঠকের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন শাসককে, হাতে তুলে দিয়েছেন “স্পর্ধিত গাণ্ডীব”।

ভারি চমৎকার একটি কথোপকথনের ভঙ্গিতে কবি বুনে চলেন তার অলীক ইচ্ছে, স্বপ্ন আরো কত কি!

আসলে তো কবি এবং তার কবিতা ঋণী হয়ে যায় বেশ কিছু ভালো লাগা মন্দ লাগা মুহূর্তের কাছে, রক্ত ঘাম ও যন্ত্রণার কাছে, বিকেলের নরম গোধূলি লগনের আলোর কাছে, ফুরিয়ে যাওয়া শৈশবের স্মৃতির কাছে। এই ঋণ স্বীকারই তো দক্ষ কবির কলমে আগুন হয়ে ওঠে। “শুকনো পাতা জোট বাঁধে সব আগুন হবে বলে”। অরিন্দম তেমনই একজন সার্থক কবি, যে চলবে আরো বহু দূর পথ। যার চোখ দুটো আতস কাঁচ দিয়ে দেখে নেবে হৃদয়ের অতলান্ত, বাদামি রঙের ফ্রেম সেই সব স্বপ্নগুলো এঁকে রাখবে নিপুণ রেখায়! অবশ্য নিপুণ রেখায় কালো তুলিতে একজন এঁকেছেন অরিন্দমের কবিতার বইয়ের পাতায় পাতায় ছবি। ধন্যবাদ তাকেও। চমৎকার এক একটি লেখা ও রেখা নিয়ে এই বইটি বাঙলা কাব্য জগতে একটি জায়গা তৈরি করে নেবে এই আশা রাখি।

“শূন্যতা বড্ড ছোঁয়াচে
তোমাকে দিয়ে ছিলে পুরোটা
আমার আর কি বাঁচে?”

কবি, সবটুকু প্রশংসা দিয়ে দিলে আলোচকের হাতে আর কি বা বাঁচে! বাঁচে নিশ্চয়ই কিছু, যা বাঁচে তাই নিয়েই “নোনা জল মেশে নদীতে”।

ডঃ সুস্মিতা সাহা
Poet and Faculty
Department of Bengali
Vidyasagar Evening College

আরও পড়ুন >> বহমান ঐতিহ্য

বইটি সংগ্রহ করতে যোগাযোগ করুনঃ
দিগন্ত পাবলিকেশন | 9831543045

Facebook Comments

You Might Also Like