বই রিভিউ বাংলা পত্রিকা দপ্তর

চক্কোত্তির শ্লোগানঃ কলম যেখানে ক্ষমতার উৎস – অরবিন্দ ভট্টাচার্য

য়সে তরুণ, চিন্তনে নয়! মৃগাঙ্ক চক্রবর্তীর কাব্য গ্রন্থ “চKKOTIর শ্লো-GUN” পড়ে তেমনটাই মনে হয়েছে আমার। মোট চোদ্দটি কবিতা নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে মৃগাঙ্কর দ্বিতীয় নিবেদন। কবিতা না বলে ছড়া বলাই ভাল! প্রায় সব গুলো কবিতা/ছড়াই স্যাটায়ার ধর্মি। তরুণ এই কবির সমসাময়িক জীবন ও সমাজ প্রেক্ষণের তারিফ করতেই হয়। কেউ মাছ দেখে, তৃতীয় পাণ্ডবের মত কেউ দেখে মাছের চোখ। তাই অনায়াস বীক্ষণে লক্ষ্য ভেদ করতে সমর্থ হয়েছে মৃগাঙ্ক। আমাদের জীবনের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ত্রুটি বিচ্যুতি দোষ গুণ আদিখ্যেতা মূর্ত হয়ে উঠেছে এই তরুণ কবির কলমে। তাঁর শব্দ চয়নের মুন্সিয়ানা প্রশংসার অপেক্ষা রাখে না। এই প্রজন্মের কিছু কবি! যারা সারিবদ্ধ ভাবে এলোমেলো কিছু শব্দ সাজিয়ে, থুরি পড়ুন বসিয়ে অবাঞ্চিত দ্যোতনা হীন শব্দ জাল রচনা করে মাকড়সার মত জোর করে পাঠককে তাঁর অনাসৃষ্টির প্রতি আকৃষ্ট করতে চেষ্টা করছেন, মৃগাঙ্কর কবিতাগুলো একবার অন্তত তাঁদের পড়ে দেখতে অনুরোধ করছি। মৃগাঙ্কর কবিতা থেকে দু’একটি পংক্তি তুলে ধরছি। কবিতার নাম –

পাত্রী চাই –

“ছেলে আমার খুব সাধারণ, পুরোদস্তুর ভদ্রলোক, 
সুশ্রী-সুশীল-সাংস্কৃতিক, ন্যায় ধার্মিক জীবন বোধ। 
এমনিতে সে স্বল্পাহারী-মিতব্যয়ী-সুশৃঙ্খল,
বাড়তি একটু চাপ হয়ে যায় পড়লে পেটে অ্যালকোহল।” 

অন্য একটি কবিতা। কবিতার নাম –

প্রসঙ্গত-

আমরা কেমন বদলে ফেলি যখন তখন 
রঙ-বেরঙের মুখোশ গুলো মুখের থেকে,
সুযোগ বুঝে পাল্টে ফেলি স্বভাবগুলো,
দিন বদলের দ্বন্দ্ব চলে সময় মেপে। 
….
কবিতার নাম-

সিলেবাস-

ইঞ্চি দু’য়েক গন্ডি কাঁটা, তার ওপারে অন্য দেশ, 
সায় দিয়ে রোজ ঘাড় নারালেই তোমার আমার দ্বন্দ্ব শেষ।
কোনদিকে পা বাড়ায় শরীর, কোন ছবি চায় দেখতে চোখ,
সব কিছুতেই চোখরাঙানি, ক্ষত-র ভিড়ে বাড়ছে নখ।

অথবা তাঁর লেখনি আগ্নেয়গিরি হয়ে ওঠে যখন তিনি তাঁর কাটাকুটি কবিতায় প্রতিবাদী হয়ে লেখেন –

যে মেয়েটা ধর্ষিতা হয় রাতবেরাতে,
ইভটিজিংয়ের একলা শিকার গলির মোড়ে,
পথের দাবির অঙ্কে ঝোলে নিথর দেহ,
আগুন আঁচে যে মেয়েটার শরীর পোড়ে
বয়স্কা মা-র আখ্যা জোটে ডাইনি নামে,
পড়শী যারা পিটিয়ে মারে “সবার” ভালোয়;
Acid ফোঁটায় জ্বলছে কতো মৃন্ময়ী মুখ,
মুখের ভাষা তলিয়ে গেছে রাতের কালোয়। 
….

উত্তরের এই তরুণ কবির কবিতা গুলো স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল হয়ে আমাদের অস্তিত্বের গভীরে নাড়া দিয়ে যায়। আগামীতে এই তরুণ কবির লেখনী থেকে আরো অজস্র অগ্নিবান ঝরে পড়ুক অকাতরে যা আমাদের জীবন চেতনার রুদ্ধ দুয়ার খুলে দিতে অগ্রনীর ভূমিকা নেবে।
পরিশেষে ধন্যবাদ জানাই কলকাতার (ব্যারাকপুর) দিগন্ত পাব্লিকেশসন এর কুশীলবদের। প্রায় সাতশ কিলোমিটার দূর থেকে যারা এগিয়ে এসেছেন মৃগাঙ্কর এর দুরন্ত কবিতাগুলোকে পাদ প্রদীপের আলোকে বিকশিত করে তুলতে।

chokkottir slogan review 1
Facebook Comments

You Might Also Like